ভোজ্য তেলের ভেতরে সরিষার তেলের গ্রহণযোগ্যতা ও খাদ্য উপযোগিতা বরাবরই বেশি। অনেকেই তাদের প্রতিদিেনের রান্নার কাজে সরিষার তেল ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এই সরিষার তেলে রয়েছে বেশকিছু উপকারিতা। কয়েকটি সমীক্ষায় দেখা যায় যে সরিষা তেলে একটি বিশেষ ধরনের উপাদান আছে যা কলোরেক্টাল এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।আগের যুগের দাদি-নানিরা ত্বকের যত্নে সরিষার তেল ব্যবহার করতেন। বর্তমানে এই তেল শুধু রান্নার কাজে ব্যবহার করা হলেও রূপচর্চায় এর গুণাগুণ কোনো অংশে কম নয়। ওমেগা আলফা ৩ ও ওমেগা আলফা ৬ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ই ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উত্স হওয়ায় সরিষার তেলকে স্বাস্থ্যকর তেল বলা হয়।
এর ঔষধি গুণাগুণের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ চিকিত্সায় ব্যবহার হয়ে
আসছে এই তেল। ত্বক, চুল ও স্বাস্থ্যের জন্য সরিষার তেলের অসাধারণ
উপকারী।সামান্য কাটা ছেঁড়ায় এন্টিসেপটিক এর কাজ করে। সরিষার তেল
সন্ধিস্থলের ব্যথা হ্রাস করে। সরিষা তেল শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে
দেয় যা হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়।
নিদ্রাহীনতা ও ক্যান্সার
প্রতিরোধক। শরীরে ব্যথা কমায়। শ্বাসকষ্টের প্রদাহ হ্রাস করে। রক্ত সঞ্চালন,
হজম প্রক্রিয়া এবং হরমোন নিঃসরণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
সরিষার তেল
আপনার শরীরের পাচক রস নিঃসরণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ক্ষুধা বাড়ে।
সরিষা তেল চুলকে ঝলমলে করে তোলে, খুশকি দূর করে এবং চুল বৃদ্ধি করে।
প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সরিয়া তেল চুল এবং মাথার তালুতে ম্যাসাজ
করুন।
এটি চুল পাকা রোধ করবে। সরিষা তেলে প্রচুর পরিমাণে বিটা
ক্যারোটিন আছে। এটি নিয়মিত মাথার তালুতে ম্যাসাজ করার ফলে নিয়মিত নতুন চুল
গজাতে সাহায্য করে। ত্বকের কালো দাগ দূর করতে সরিষার তেল অনেক কার্যকরী।
সরিষা তেল মাথা ব্যথা কমায়। শুষ্ক ত্বক মসৃণ ও কোমল করে। ঠোঁটের শুষ্কতা
দূর করে এবং ত্বকের প্রদাহ দূর করে। শীতের সময় সরিষার তৈল মাখলে ত্বক
সুন্দর থাকে।
পোকামাকড় সরিষার তেল সহ্য করতে পারে না। এই তেল
ব্যবহার করে পোকামাকড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে সরিষা
তেল। নাকের বদ্ধভাব দূর করে।
কানের ব্যথায় কানের ড্রপের বিকল্প।
সামান্য কাটা ছেঁড়ায় অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে। নিয়মিত এই তেল মালিশ
করলে বাতের ব্যথায় উপকার পাওয়া যায়। দাঁত মজবুত করে এবং ব্যথা কমাতে
সাহায্য করে সরিষা তেল।এবার গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপকারিতার একটি তালিকা দেখে
নিনঃ ১.
ওমেগা ত্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধি: বিশ্ব সংস্থার প্রকাশ
করা রিপোর্ট অনুসারে সরষের তেল ওমেগা ত্রি এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডে
সমৃদ্ধি, যা জয়েন্ট পেন এবং ডিপ্রেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ
ভূমিকা পালন করে থাকে। ২. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়: সরষের তেলে উপস্থিত
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই
সঙ্গে মনোযোগ বৃদ্ধি এবং সার্বিকভাবে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার উন্নতিতেও
সাহায্য করে।
৩. শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়: একাধিক
গবেষণায় দেখা গেছে সরষের তেলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা খারাপ কোলস্টেরলের
মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। সেই
সঙ্গে শরীরের প্রতিটি কোণায় যাতে ঠিক মতো রক্ত পৌঁছে যেতে পারে সেদিকেও
খেয়াল রাখে। ৪.
হার্টের বন্ধু: এক্ষেত্রে চিকিত্সকদের মধ্যে মত
পার্থক্য রয়েছে ঠিকই। কিন্তু একাধিক গবেষণায় একতা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে
নিয়মিত সরষের তেল খেলে হার্টের কোনও ক্ষতি হয় না। বরং হৃদপিণ্ডের
কর্মক্ষমতা বাড়ে। সেই সঙ্গে হঠাত্ হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও হ্রাস পায়।
৫. ডিপ ফ্রাই করার জন্য আদর্শ: আমরা মানে বাঙালিরা যেহেতু বেশিরভাগ খাবারই
উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করে থাকি তাই আমাদের জন্য সরষের তেলের কোনও বিকল্প
হয় না বললেই চলে। আজকাল অনেকে বাঙালিই স্বাস্থ্যের কথা ভেবে অলিভ ওয়েল
ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু একথা জেনে রাখা ভাল যে রকমের খাবার আমরা খেয়ে
থাকি তা বানাতে অলিভ অয়েল একেবারেই আদর্শ নয়।
কারণ কম তাপমাত্রায়
বানানো খাবারে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু যেসব খাবার বেশি
আঁচে বানানো হয়, তাতে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে শরীরের ভাল হওয়ার থেকে খারাপ
হয় বেশি। ৬. ঠান্ডা লাগার হাত থেকে বাঁচায়: আজও ঠাকুমা-দিদিমারা
নাতি-নাতিনিরা ছোট থাকতে সরষের তেল মাখিয়ে থাকেন। কেন এমনটা করে জানেন?
কারণ ঠান্ডা লাগা এবং সর্দি-কাশির সমস্যা থেকে শুরু করে একাধিক রোগের হাত
থেকে বাঁচাতে এই তেলটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

0 comments: