সর্বশেষ
Thursday, September 15, 2022
সর্ষের তেলেই রয়েছে সৌন্দর্যের চাবিকাঠি, ট্রাই করুন এই সহজ টিপসগুলি
সকলের মধ্যমণি হয়ে ওঠার জন্য চাই স্পেশ্যাল কেয়ার
শুকিয়ে যাওয়া ত্বকের জন্য সর্ষের তেল ভীষণ উপকারী
ঠোঁট ফাটার থেকে মুক্তি পেতে ভরসা রাখুন সর্ষের তেলে
সর্ষের তেল নিয়মিতভাবে মাথায় ব্যবহার করলে খুসকি, চুল পড়ার মতো সমস্যা থেকে অনায়াসেই মুক্তি পাওয়া যায়
শীতকাল চলে এসেছে। আর শীতকাল আসা মানেই ত্বকের চাই বাড়তি যত্ন । শীত মানেই নানা উৎসব, একের পর এক বিয়েবাড়ি, অনুষ্ঠান লেগেই রয়েছে। সকলের মধ্যমণি হয়ে ওঠার জন্য চাই স্পেশ্যাল কেয়ার। জমকালো পোশাক, আর সাজলেই সকলের নজরকাড়া যায় না। তার জন্য শরীরেরও যত্নের প্রয়োজন হয়। শীত পড়তে না পড়তে ত্বকে টান ধরতে শুরু করেছে। তার পাশাপাশি বিভিন্ন ময়েশ্চারাইজার, বডি অয়েলেরও কদর বেড়েছে। ঠাকুমা-দিদিমাদের আমলে এতকিছু বায়নাক্কা ছিল না। খাটি সর্ষের তেলেই ত্বক থেকে শুরু করে চুল , সারা শরীরের পরিচর্যা করতেন। কিন্তি এখন সময় বদলেছে। এখনকার দিনে সর্ষের তেলের বদলে জায়গা করে নিয়েছে বাজারচলতি বিভিন্ন তেল। কিন্তু সর্ষের তেলের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে অনেক গুণ। রূপচর্চায় এই সর্ষের তেল বহুল প্রচলন রয়েছে। যা ম্যাজিকের মতোন কাজ করে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক সর্ষের তেলের একগুচ্ছ গুনাগুণ।
ত্বকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে
স্নানের আগে সর্ষের তেলের বহুল প্রচলন রয়েছে। স্নান করতে যাবার আগে সর্ষের তেল দিয়ে সারা বডি ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ রেখে স্নান করতে যেতেন কমবেশি প্রত্যেকেই। শুকিয়ে যাওয়া ত্বকের জন্য সর্ষের তেল ভীষণ উপকারী। সর্ষের তেলের সঙ্গে বেসন, টকদই, লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে সারা গায়ে মাখলে ত্বকের প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসবে
চুলের যত্নে
সর্ষের তেল নিয়মিতভাবে মাথায় ব্যবহার করলে খুসকি, চুল পড়ার মতো শীতকালীন সমস্যা থেকে অনায়াসেই মুক্তি পাওয়া যায়। শ্যাম্পু করার কিছুক্ষণ আগে বা আগের দিন সর্ষের তেল গরম করে ভাল করে সারা মাথায় ম্য়াসাজ করুন। তারপর কিছুক্ষণ রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এতে চুলের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।
শুষ্ক ত্বকের যত্নে
শীতকালে কমবেশি প্রত্যেকেরই ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। এছাড়াও ত্বক থেকে ছাল ওঠা এটা একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। বিশেষত, কোনও পার্টিতে যাবার সময়ও এই সমস্যা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ভীষণ কার্যকরী সর্ষের তেল। হাতে কয়েক ফোঁটা সর্ষের তেল নিয়ে সারা মুখে ঘষে নিন। তারপর কিছক্ষণ রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর দেখবেন ত্বকের আলগা চামড়াগুলো এমনিতেই উঠে গেছে। এরপর মেক আপ করে নিন।
ঠোঁটের যত্নে
শীতকালে ঠোঁট ফাটা একটি বড় সমস্যা। শুষ্ক ঠোঁটের কারণেই ঠোঁট ফাটে। কয়েক ফোঁটা সর্ষের তেল নিয়ে ভাল করে ঠোঁটে মেখে নিন। যা বাজারচলতি লিপবামের থেকে অনেক বেশি কার্যকরী। তাই আর দেরী না করে আজ থেকেই সর্ষের তেল লাগানো শুরু করুন। আর ঘরোয়া এই তেল দিয়েই নিজেকে সুন্দর করে তুলুন।
খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহারের বিশেষ ১০টি উপকারিতা
সরিষার তেল আমাদের ঐতিহ্য। সরিষার তেল একসময় গ্রামবাংলার একমাত্র ভোজ্যতেল ছিল। এই তেল প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে এর ঔষধি গুণাগুণের জন্য। সরিষার তেল যেমন প্রয়োজনীয় তেমন উপকারীও। তবে বর্তমানে, বাজারে সয়াবিন তেলের আবির্ভাবের পর থেকেই আমরা অনেকেই সরিষার তেলের উপকারিতার কথা ভুলে গেছি। অথচ এক সময় আমাদের রান্নার প্রধান উপকরণ ছিল সরিষার তেল। এখনও প্রায় প্রতিটি বাড়ির রান্না ঘরে রয়েছে সরিষার তেল যা – রান্নায়, ভর্তা বানাতে এমনকি মালিশের কাজেও ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ বছর আগে থেকেই চিকিৎসা শাস্ত্রে সরিষার তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই সরিষার তেল প্রয়োজনীয় তেমনি এর উপকারিতাও অনেক।
গুণের শেষ নেই সরিষার তেলের
সরিষা তেলের বহু গুণ রয়েছে। রান্নার তেল হিসেবে যেমন উপকারী, তেমনি রূপচর্চায়ও সরিষা তেল ব্যবহার করা যায় নানাভাবে। ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সরিষা তেলে থাকে অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান। এর মধ্যে আছে প্রোটিন, ভিটামিন-ই, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ওমেগা ফ্যাটি এসিড এবং পরিমাণমতো ভিটামিন-এ।
ত্বকে ব্রণ কিংবা সানট্যান হলে সরিষা তেল ব্যবহারে উপকার পাওয়া যাবে। অল্প পরিমাণে সরিষা তেল হাতে নিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করুন আপনার ট্যানপড়া ত্বকে। তারপর তুলো পানিতে ভিজিয়ে আস্তে আস্তে মুছে নিন। কিছুদিনের মধ্যেই চোখে পড়ার মতো উপকার দেখতে পাবেন। নিয়মিত ব্যবহারে কখনোই সানট্যান হবে না।
মুখে কালো দাগ বা ছোপ কিংবা ব্রণ কমে গেলেও দাগ থেকে যায়। এর সমাধান হলো দুই চামচ সরিষা তেল নিয়ে তার মধ্যে এক চামচ নারকেল তেল মেশান। এর মধ্যে এক চামচ লেবুর রস আর দুই চামচ টকদই দিয়ে একটা প্যাক বানিয়ে মুখে মাখুন। মিনিট দশেক পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে শুধু দাগ যাবে না, সঙ্গে মুখের জেল্লা বাড়বে।
সরিষা তেল আর আদা এই দুটোতেই এমন উপাদান থাকে, যা ত্বকের প্রদাহজনিত ক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়। ফলে ব্যথা থেকে আরাম পাওয়া যায়। জয়েন্টের ব্যথার হাত থেকে নিরাময় পেতে সরিষা তেলে পরিমাণমতো কর্পূর মেশান। তেলটা গরম করে ঠাণ্ডা হতে দিন।
এবার সেই তেল দিয়ে মালিশ করুন। আরাম পাবেন। সরিষা তেল আমাদের শরীরের রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে এবং যাতে বাধাপ্রাপ্ত না হয়, যে দিকে নজর রাখে। ক্লান্তি দূর করে পেশি উজ্জীবিত এবং সবল রাখতে সরিষা তেল ভূমিকা রাখে।
একই সঙ্গে এই তেল শুধু আমাদের কোলেস্টেরল কমায় না, সঙ্গে লোহিত রক্তকণিকার গঠনে ভূমিকা রাখে। সরিষা তেল ঠান্ডা লাগার কষ্ট থেকে বাঁচায়। দুই হাতে তেল নিয়ে ভালো করে বুকে ম্যাসাজ করুন। আরাম পাবেন। সঙ্গে বুকের জমা কফ বেরোতে বা কমতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে বন্ধ নাক খোলার জন্য এক বাটি পানি নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা সরিষা তেল ফেলুন। এবার পানি একটু গরম করে তার ভাপ নিন। দেখবেন বন্ধ নাক খুলে গেছে। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সরিষা তেল বুকে বা পায়ের তলায় মালিশ খুবই কার্যকর।
সরিষার তেলের জাদুকরী উপকারিতা
সরিষার তেলের উপকারিতার কথা অনেকেই জানেন। এ তেল দিয়ে শুধু ত্বকই নয়- হৃৎপন্ড, পেশি, গাঁটের সমস্যা পর্যন্ত দূর করা যায়। সরিষার তেল ভেষজ প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। এটি ব্যবহারে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং সহজেই হজমকারক।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শ্বাসনালি এবং মূত্রনালি ও ব্রঙ্কাইটিস ইনফেকশন সারাতে সরিষার তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে। এ তেলে রোগের জীবাণু ধ্বংসের ক্ষমতা রয়েছে। এর উপাদান শরীর ক্ষুদ্রান্ত্রের মাধ্যমে গ্রহণ করে এবং ফুসফুস ও বৃহদান্ত্রের প্রয়োজনীয় জীবাণুকে কোনোরকম ক্ষতি না করেই কিডনির মাধ্যমে তা নিষ্কাশিত করে দেয়।চুল ও ত্বকে সরিষার তেল ব্যবহারে যত উপকার
সরিষার তেল ত্বক ও চুলের যত্নে খুবই উপকারী। আপনি নিয়মিত ত্বক ও চুলের যত্নে সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন। মাথার তালুতে সরিষার তেল ম্যাসাজ করলে অনেক উপকার পাবেন।
চুলে সরিষার তেল ব্যবহারের উপকারিতা সমুহ:
১. চুলে নিয়মিত সরিষার তেল মালিশ করলে ফলিকল মজবুত হয়ে চুল পড়া বন্ধ হবে। ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সরিষার তেলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম মিনারেল এবং ভিটামিন এ ডি ই ও কে। এ ছাড়া থাকে জিংক, বিটা ক্যারোটিন ও সেলেনিয়াম, যা চুল লম্বা হতে সাহায্য করে।
২. প্রাকৃতিক কন্ডিশনার সরিষার তেলে আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা চুল সুন্দর ও স্বাস্থ্য উজ্জ্বল রাখে। এ ছাড়া আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড দারুণ কন্ডিশনারের কাজ করে। ফলে চুল দ্রুত বাড়ে।
৩. রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে চুল রুক্ষ, শুষ্ক, নিষ্প্রাণ হয়ে গেলে নিয়মিত মাথার তালুতে সরিষার তেল মালিশ করুন। ফলে মাথার তালুতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকভাবে হবে এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়ে চুল পড়া বন্ধ হবে। এ ছাড়া চুল সুন্দর, বড়, মজবুত ও স্বাস্থ্য উজ্জ্বল করতে সরিষার তেল অত্যন্ত উপকারী।
ত্বকে সরিষার তেল ব্যবহারের উপকারিতা সমুহ:
মুখে সরিষার তেল দিয়ে মালিশ করলে ত্বকে অনেক উপকার মেলে। সরিষার তেল দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে মুখের দাগ দূর হবে।
ফেসপ্যাক তৈরির পদ্ধতি
২
চামচ সরিষার তেল, ১ চামচ বেসন, ১ চামচ দই এবং আধা চামচ লেবুর রস নিন। একটি
বাটিতে সরিষার তেল, দই, বেসন ও লেবুর রস একসঙ্গে ভালোভাবে মিশ্রিত করে ঘন
পেস্ট তৈরি করুন। এর পর মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
সরিষার তেলের ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের ডার্ক স্পট কমার পাশাপাশি ত্বক উজ্জ্বল হয়।
নিয়মিত সরিষার তেল খেলে শরীরের যত উপকারিতা
গবেষণা পত্রগুলি অনুসারে শরীর এবং ত্বকের উপকারে নানাভাবে কাজে লাগে সরিষার তেল। তাই এই খেলে শরীরের কোনও ক্ষয় ঘটবে, এমনটা ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই বললেই চলে। তাহলে আর অপেক্ষা কেন, এখনই জেনে নিন প্রতিদিন সরষের তেল খেলে কী কী উপকার পাওয়া যায় সে সম্পর্কে।
প্রসঙ্গত, সরষের তেলের অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। যেমন…
১. মাইগ্রেন:
মাইগ্রেনের কষ্ট কমাতে ম্যাগনেসিয়াম দারুন কাজে আসে। আর যেমনটা ইতিমধ্যেই আপনারা জেনে গেছেন যে সরষের তেলে এই খনিজটি বিপুল পরিমাণে থাকে। তাই এমন তেলে রান্না করা খাবার খেলে মাইগ্রেনের কষ্ট একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, সরষের তেলে ভাজা মাছ খেলে শরীরে ওমাগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে অনেক ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।
২. ক্যান্সার রোগের প্রকোপ কমায়:
সরষের তেলে উপস্থিত গ্লকোসুনোলেট এবং মিরোসিনেস নামে দুটি উপাদান শরীরে ক্যান্সার সেলের বৃদ্ধি আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই প্রতিদিন এই তেলটি খেলে এমন ধরনের মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যে অনেকাংশেই হ্রাস পাবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
৩. ডিপ ফ্রাই করার জন্য আদর্শ:
আমরা মানে বাঙালিরা যেহেতু বেশিরভাগ খাবারই উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করে থাকি তাই আমাদের জন্য সরষের তেলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আজকাল অনেকে বাঙালিই স্বাস্থ্যের কথা ভেবে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু একথা জেনে রাখা ভাল যে রকমের খাবার আমরা খেয়ে থাকি তা বানাতে অলিভ অয়েল একেবারেই আদর্শ নয়। কারণ কম তাপমাত্রায় বানানো খাবারে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু যেসব খাবার বেশি আঁচে বানানো হয়, তাতে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে শরীরের ভাল হওয়ার থেকে খারাপ হয় বেশি।
৪. ওমেগা ত্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধি:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশ করা রিপোর্ট অনুসারে সরষের তেেল ওমেগা ৩ এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধি, যা জয়েন্ট পেন এবং ডিপ্রেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৫. পেটে ব্যথা কমায়:
সরষের তেলে উপস্থিত অ্যান্টি-ইমফ্লেমেটারি উপাদান যে কোনও ধরনের প্রদাহ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষত মাথা যন্ত্রণা এবং তলপেটের অস্বস্তি কমাতে এই প্রকৃতিক উপাদানটি দারুন কাজে আসে।
৬. আর্থ্রাইটিস রোগের কষ্ট কমায়:
সেলেনিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম, এই দুটি খনিজ সরষের তেলে খুব বেশি পরিমাণ থাকে, যা আথ্রাইটিসের প্রদাহ কমানোর পাশপাশি এই রোগের প্রকোপ হ্রাসেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা এমন ধরনের হাড়ের রোগে ভুগছেন, তাদের প্রতিদিন সরষের তেলে রান্না করা খাবার খাওয়া উচিত।
৭. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:
সরষের তেলে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে মনোযোগ বৃদ্ধি এবং সার্বিকভাবে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার উন্নতিতেও সাহায্য করে।
৮. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে:
সরষের তেলে রয়েছে কপার, আয়রণ, ম্যাগনেসিয়াম এবং সেলেনিয়াম। এই খনিজগুলি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৯. ঠান্ডা লাগার হাত থেকে বাঁচায়:
আজও দাদী নানিরা নাতি-নাতিনিদের ছোট থাকতে সরষের তেল মাখিয়ে থাকেন। কেন এমনটা করে জানেন? কারণ ঠান্ডা লাগা এবং সর্দি-কাশির সমস্যা থেকে শুরু করে একাধিক রোগের হাত থেকে বাঁচাতে এই তেলটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।
১০. শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়:
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে সরষের তেলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। সেই সঙ্গে শরীরের প্রতিটি কোণায় যাতে ঠিক মতো রক্ত পৌঁছে যেতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখে।
১১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:
সরষের তেলে উপস্থিত বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিয়ে আমাদের একাধিক রোগের খপ্পর থেকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
১২. হার্টের পরম বন্ধু:
এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে ঠিকই। কিন্তু একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে নিয়মিত সরষের তেল খেলে হার্টের কোনও ক্ষতি হয় না। বরং হৃদপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ে। সেই সঙ্গে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও হ্রাস পায়।
১৩. শ্বাস কষ্ট দূর হয়:
একাধিক গবেষণায় একথা প্রামাণিত হয়েছে যে শ্বাসকষ্ট সম্পর্কিত যে কোনো ধরনের সমস্যা কমাতে সরষের তেলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই যারা এমন ধরনের রোগকষ্টে ভুগছেন, তাদের নিয়মিত সরষের তেল খাওয়া উচিত।
১৪. ডায়াটারি ফাইবার সমৃদ্ধ:
হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি নানাবিধ পেটের রোগ থেকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয় সরষের তেল। আসলে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, যা পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে দারুন কাজে আসে। তাই পেটের রোগ তেকে যদি দূরে ছাকতে চান তো কখনও সরষের তেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব ভাঙবেন না।