Thursday, September 15, 2022
কোন তেল বেশি উপকারী, সয়াবিন না সরিষা?
প্রতিদিনের রান্নার কাজে তেল তো লাগেই। সবজি, মাছ, মাংস, ডাল, খিচুড়ি, পরোটা কোনটাই বা তেল ছাড়া হয়! কিন্তু সব তেল যে স্বাস্থ্যের জন্য সমান উপকারী, তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে উপকারী তেলের তালিকা। কোনোটি বলছে অলিভ অয়েলই ভালো, কোনোটি আবার অ্যাভোকাডো তেলের পক্ষে। সরিষার তেলের উপকারিতাও কম নয়।
পরিশোধিত তেল কি ভালো?
আমাদের সবার রান্নাঘরেই থাকে পরিশোধিত তেল। বেশিরভাগেরই ধারণা, এই তেল স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী এবং এই তেল দিয়ে সব ধরনের খাবার তৈরি করা যায়। আসলেই কি এই তেল উপকারী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তেল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। পরিশোধিত করতে গিয়ে এই তেল খুব বেশি তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে আসে, যে কারণে এর পুষ্টি অনেকটাই কমে যায়। এই তেলে পাওয়া যায় ট্রান্স ফ্যাট, যা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। উপকারী তেল তাহলে কোনগুলো? জেনে নিন-
ঘানিভাঙ্গা সরিষার তেল
পরিশোধিত তেলের বদলে কাচ্চি ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেল ব্যবহার করুন। এটি তৈরিতে কোনো তাপমাত্রা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় না। ফলে পুষ্টির প্রায় সবটাই রয়ে যায়। সরিষার তেল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে এবং এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই তেল আপনি যেকোনো রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন।
অলিভ অয়েল
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যতম স্বাস্থ্যকর তেল হলো অলিভ অয়েল। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে রান্না করা ভালো কারণ এটি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। এই তেল প্রক্রিয়াজাত ও পরিশোধিত হয় না, ফলে এর গুণমান অটুট থাকে। এতে থাকে পর্যাপ্ত মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কিছু পরিমাণ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুলো হার্টের জন্য খুব উপকারী। অলিভ অয়েলে রান্না করলে আঁচ খুব বেশি বাড়ানো যাবে না। এই তেল বেকিং বা সালাদে ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে ভালো।
নারিকেল তেল
নারিকেল তেলে থাকে উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট। তাই এর উপকারিতা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। এই ফ্যাটকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে ধরা হয়। তবে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, স্যাচুরেটেড ফ্যাট স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোতে অল্প ব্যবহার করে কোলেস্টেরল কমানো যেতে পারে। তাদের মতে, আমাদের শরীরেও দরকার পড়ে কিছু পরিমাণ স্যাচুরেটেড ফ্যাটের। তাই এটি সামান্য পরিমাণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
সূর্যমুখী তেল
ভিটামিন ই সমৃদ্ধ তেল হলো সূর্যমুখী। এক চা চামচ সূর্যমুখী তেলে প্রায় আঠাশ শতাংশই থাকে ভিটামিন ই। এতে আলাদা স্বাদ থাকে না, তাই রান্না করা খাবারে তেলের স্বাদ যোগ হয় না। সূর্যমুখী তেলে থাকে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড, এটি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি শরীরে সৃষ্ট প্রদাহ কমাতে কাজ করে।
ভেজিটেবল অয়েল
উদ্ভিদ থেকে পাওয়া তেলকে বলা হয় ভেজিটেবল অয়েল। রান্নার ধরন বুঝে এই তেলের উপকারিতা বাড়তে বা কমতে পারে। তবে এই তেল প্রক্রিয়াজাত এবং পরিশোধিত হওয়ার কারণে এর স্বাদ ও পুষ্টি কম হয়। এটি পরিমিত খেলে আমাদের শরীরে ভালো ও খারাপ কোলেস্টেরলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে অতিরিক্ত খেলে তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের দেশে যে ভেজিটেবল অয়েলটি বেশি ব্যবহার করা হয় তা হল সোয়াবিন, তিল, তিসি ইত্যাদি।
সয়াবিন তেলের চেয়ে সরিষার তেল তুলনামূলক ভালো, অলিভ অয়েল আরো ভালো। কিন্তু তেল ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। অনেকে মনে করেন, অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করলে বেশি পুষ্টি হবে। কিন্তু যখন আপনি অলিভ অয়েল বেশি তাপে রান্না করবেন গুণগত মান নষ্ট হবে।
চুল লম্বা ও মজবুত করে সরিষার তেল
কেবল রান্নাতেই নয়, ঠাণ্ডার চিকিৎসা, ত্বক মসৃণ করা এবং সর্বোপরি চুলের যত্নে সরিষার তেলের অবদান অনস্বীকার্য। দূষণ ও রাসায়নিক প্রভাবে আমাদের চুল রুক্ষ হয়ে যায়। সরিষার তেলের নিয়মিত ব্যবহার চুলে নিয়ে আসবে প্রাকৃতিক জৌলুস। পাশাপাশি কমবে চুল পড়াও।
যেসব কারণে চুলের যত্নে সরিষার তেল ব্যবহার জরুরি
- সরিষার তেলে আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা চুল সুন্দর ও স্বাস্থ্যজ্বল রাখে। এছাড়া আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড দারুণ কন্ডিশনারের কাজ করে। ফলে চুল দ্রুত বাড়ে।
- আজকাল চুল পড়া খুবই সাধারণ সমস্যা। এর কারণ চুলের ফলিকল দুর্বল হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া। চুলে নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহার করলে ফলিকল মজবুত হয়ে চুল পড়া বন্ধ হবে।
- সরিষার তেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ আরও বিভিন্ন মিনারেল এবং ভিটামিন থাকে। এছাড়াও থাকে জিঙ্ক, বিটা ক্যারোটিন ও সেলেনিয়াম যা চুল লম্বা হতে সাহায্য করে।
- চুল রুক্ষ, শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে গেলে নিয়মিত মাথার তালুতে সরিষার তেল ম্যাসাজ করুন। এর ফলে মাথার তালুতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকভাবে হবে এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়ে চুল পড়া বন্ধ হবে।
- সরিষার তেলে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা চুল বড় হতে সাহায্য করে।
- অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান থাকে সরিষার তেলে। এটি খুশকি ও চুলকানি দূর করে।
চুলের যত্নে যেভাবে ব্যবহার করবেন সরিষার তেল
- টক দইয়ের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান। তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। আধা ঘণ্টা পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার বা দুইবার ব্যবহার করুন।
- সরিষার তেল, লেবুর রস ও ধনিয়া গুঁড়া ভালো ভাবে মেশান। মাস্ক হিসাবে চুলে নিয়মিত মাখুন। আধ ঘণ্টা রেখে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল হবে মজবুত ও খুশকিমুক্ত।
- একটি পাকা কলা চটকে নিন। সরিষার তেল ও দই মেশান। মিশ্রণটা ভালোভাবে মাথার তালুতে লাগান এবং আধ ঘণ্টা পর সাধারণ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে চুলে কন্ডিশনার লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল মসৃণ, উজ্জ্বল, মজবুত ও নরম হবে।
- একটা পাত্রে সরিষার তেল ও অ্যালোভেরা মেশান। মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট। মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন চুল। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে দুইদিন এই পদ্ধতি অবলম্বন করুন। হেয়ার প্যাকটি চুল মসৃণ ও স্বাস্থ্যজ্বল করবে। পাশাপাশি বন্ধ করবে চুল পড়া।
তথ্য: এনডিটিভি
Saturday, September 10, 2022
সরিষার তেল কি সয়াবিনের বিকল্প হতে পারবে
প্রতি বছর দেশে গড়ে ২ লাখ টন সরিষার তেল উৎপন্ন হয়। বিপরীতে বছরজুড়ে ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ টন। এ মুহূর্তে দেশের সবাই যদি সয়াবিন তেল সরিয়ে রেখে শুধু সরিষার তেল দিয়ে রান্না শুরু করেন, তাহলে উৎপাদিত সরিষা তেল দিয়ে মাত্র ৩৭ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। দেশে যত সরিষা উৎপাদিত হয়, তার পুরোটাই তেল হয়ে বাজারে আসে না। বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্রপস উইং শাখার তথ্য অনুযায়ী, বছরওয়ারি ফলন যাই হোক, বীজ সংরক্ষণসহ সরিষার অন্যান্য ব্যবহার বাদ দিয়ে প্রতি বছর গড়ে ৫ লাখ টন সরিষা ব্যবহার হয় তেল উৎপাদনে।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের তথ্য বলছে, সরিষা বীজে সাধারণত ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত তেল থাকে। এ হিসাবে এক কেজি সরিষা থেকে পাওয়া যায় ৪০০ গ্রাম তেল। ৪০ কেজি বা এক মণ সরিষা থেকে তেল মেলে ১৬ কেজি।
অর্থাৎ প্রতি বছর ৫ লাখ টন সরিষা থেকে গড়ে ২ লাখ টন তেল পাওয়া যায়। বিপরীতে সারা বছর দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ টন।
ঘাটতি পূরণে সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে ভোক্তারা যদি তাদের রান্নার পুরো চাহিদা সরিষা তেল দিয়ে মেটাতে চায়, তাহলে এখন উৎপাদিত সরিষা তেল দিয়ে মাত্র ৩৭ দিনের চাহিদা মিটতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭৩৭ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। হেক্টরে ১.৩৬ টন গড় ফলন হিসাবে ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪১ টন সরিষা উৎপন্ন হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বিশ্বে যত তেল ব্যবহার হয়, তার ৬০ শতাংশের জোগান দেয় সয়াবিন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি করোনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে এখন সয়াবিনের সরবরাহে মারাত্মক টান পড়েছে।
দেশে দৈনিক ভোজ্যতেলের চাহিদা ৫ হাজার ৪৭৯ টন। এর ৯০ শতাংশের জোগান আসে আমদানীকৃত সয়াবিন থেকে। বাকিটা সরিষা, সানফ্লাওয়ার অয়েল, রাইস ব্র্যান অয়েলসহ অন্যান্য উৎস থেকে আসে। এই বিকল্পগুলো থেকে সম্মিলিতভাবে বছরজুড়ে তেল পাওয়া যায় মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার টন।
কয়েক দশক আগেও দেশে সরিষার তেল ছিল রান্নায় বহুল ব্যবহৃত ভোজ্যতেল। এরপর ধীরে ধীরে সেই রান্নাঘরে দখল নেয় সয়াবিন তেল।
মূলত বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারনীতি এবং সরিষার তেলের তুলনায় দাম কম হওয়ার কারণে দেশের ৯৫ ভাগ ক্রেতা এখন সয়াবিন তেলের ভোক্তা হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে দাম বেশি হওয়ায় সরিষা তেল পরিণত হয়েছে শৌখিন পণ্যে।
কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে সয়াবিনের দাম চড়ছে। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে সরবরাহে ঘাটতি। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি ঘটেছে যে, বাড়তি দাম দিয়েও ধারে-কাছে মিলছে না সয়াবিন। এর বিপরীতে পরিমাণে কম হলেও দেশের সর্বত্র মিলছে সরিষার তেল। আবার কাঠের ঘানি বা মেশিনে ভাঙা সরিষার তেল খোলা বিক্রির পাশাপাশি করপোরেট কোম্পানিগুলোর মাধ্যমেও সারা দেশে বাজারজাত হচ্ছে। সুবিধামতো মিলছে ১০০ গ্রাম, ২৫০ গ্রাম, ৫০০ গ্রাম, ১ লিটার ও পাঁচ লিটারের বোতলেও।
এ অবস্থায় অনেক ভোক্তা বিকল্প হিসেবে আবারও সরিষার তেলে ফেরার কথা ভাবছেন, কিন্তু সয়াবিনের তাপ এসে লেগেছে সরিষার তেলের বাজারেও। সেখানেও দামে ঊর্ধ্বগতি। একসঙ্গে অনেক ক্রেতা এই তেল কিনতে শুরু করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারে ছাড়া আগের সব স্টক ইতোমধ্যে ফুরিয়ে এসেছে। তাদের ঘন ঘন ছাড়তে হচ্ছে নতুন স্টক। আগে কোম্পানিভেদে প্রতি লিটার বোতলজাত সরিষার তেলের দাম রাখা হতো ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা। এখন নতুন মূল্য উঠেছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা।
শুধু বড় কোম্পানিই নয়, দাম বেড়েছে স্থানীয়ভাবে ঘানিতে ভাঙা সরিষার তেলেরও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে সয়াবিনের অস্থিরতা তৈরির আগে প্রতি লিটার খোলা সরিষার তেলের দাম ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। রোজার আগে এ দাম বেড়ে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় গড়ায়।
ঘানি ভাঙা তেল রোজার আগে ছিল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত। এখন সয়াবিনের মারাত্মক ঘাটতিতে প্রচণ্ড রকম চাপ পড়েছে সব ধরনের সরিষার তেলের ওপর। এতে করে আরেক দফা দাম বাড়ে ঘানিতে ভাঙা সরিষারও। বর্তমানে এই তেল স্থানভেদে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, দেশে সয়াবিন তেলের বাজার অস্থির হওয়ার আগে তারা দোকানে সরিষার তেল রাখতেন শৌখিন পণ্য হিসেবে। সাধারণত আচার, চাটনি তৈরিতে এর ব্যবহার হতো। এ ছাড়া ভর্তা খাওয়া বা মুড়ি মাখার জন্য আগ্রহী ক্রেতাই শুধু সরিষার তেল কিনতেন। ফলে সরিষার তেল উৎপাদন এবং সরবরাহ খুব কম হতো।
তারা বলছেন, যেটুকু সরবরাহ থাকত, বাজারে তার স্টক শেষ হতে সপ্তাহ থেকে মাস লেগে যেত। এখন ক্রেতারা আসছেন, সরিষার তেল চাচ্ছেন, কিন্তু স্টক ফুরিয়ে যাওয়ায় কিনতে পারছেন না। অনেকে এখন ঘানিতে ভাঙা তেলের খোঁজ করছেন। বাড়তি চাহিদার কারণে কৃষক পর্যায়েও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে সরিষার দাম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতেও প্রতি মণ সরিষার দাম ছিল মানভেদে ২ হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। এখন সেই সরিষা বাজারে বা কৃষক পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়।
মূলত সরিষার দাম বাড়ায় তেলের দামও বেড়েছে। আবার সরিষা কিনে মিলাররাও তেল বিক্রিতে বাড়তি মুনাফা করার চেষ্টা করছেন। এ কারণেও সরিষার তেলের দাম বেড়েছে।
বাজারে বর্তমানে রাঁধুনি, তীর, ফ্রেশ, সুরেশ, পুষ্টি, রূপচাঁদা ছাড়াও কমপক্ষে ২০টিরও বেশি ব্র্যান্ড ও নন ব্র্যান্ডের সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে তীর ব্র্যান্ডের সরিষা তেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি খুব সিম্পল। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে। এটাই স্বাভাবিক।
‘তেলের কাঁচামাল হলো বীজ, কিন্তু এবার বাড়তি চাহিদার কারণে সরিষার বীজের দামও বেড়েছে। সরিষা কেনায় বেশি খরচ পড়ায় দামও বাড়াতে হয়েছে।’
সরিষা চাষ বাড়ানো সম্ভব?
সরিষা দেশের সর্বত্র চাষ হলেও ঢাকা, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, ফরিদপুর, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, পাবনা, রাজশাহী ও রংপুর জেলায় এটি বেশি চাষ হয়।
দেশের তেলবীজ আবাদি জমির প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় সরিষা চাষ করা হয়। এরপরও ২০১৯ সালে প্রায় দশমিক ৪৬ লাখ টন সরিষা আমদানি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, এ ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষা আবাদের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এ জন্য এখনই প্রয়োজন তেল ফসলের চাষাবাদ বৃদ্ধি করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেয়া।
বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের উপপ্রকল্প সমন্বয়ক ড. রেজা মোহাম্মদ ইমনের দাবি, দেশের ২২ লাখ হেক্টর পতিত (দুই ফসলের মাঝের) জমিতে যদি বিনাসরিষা-৪ ও বিনাসরিষা-৯ আবাদ করা যায়, তাহলে বছরে ১৭ হাজার কোটি টাকার তেল আমদানি সাশ্রয় করা সম্ভব।
তিনি আরও মনে করেন, প্রতি বছর ৩ দশমিক ৫ লাখ টন উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে ২০৩০ সালে মোট সরিষা উৎপাদন হবে প্রায় ৪৬ দশমিক ৬৩ লাখ টন, যা থেকে প্রায় ১৬ দশমিক ৩২ লাখ টন তেল পাওয়া সম্ভব। এতে ১৭ হাজার কোটি টাকার যে তেল আমদানি করতে হয়, তা আর আমদানি করতে হবে না। এ জন্য অবশ্যই দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করতে হবে বিনাসরিষার মাধ্যমে।
সরিষার তেলের ১৩টি উপকারিতা যা অনেকেরই অজানা
বাজারে সয়াবিন তেলের আবির্ভাবের পর আমরা অনেকেই সরিষার তেলের উপকারিতার
কথা ভুলে গেছি। অথচ এক সময় সরিষার তেলই ছিল আমাদের রান্নার প্রধান উপকরণ।
এখনও সরিষা বা সরিষার তেল প্রতিটি বাড়ির রান্না ঘরেই রয়েছে যা – রান্নায়,
ভর্তা বানাতে এমনকি মালিশের কাজেও ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে এই তেলের
ব্যবহার অতি প্রাচীন। ৩০০০ খৃষ্টপূর্ব আগে থেকে ভারতে চিকিৎসা শাস্ত্রে
সরিষার তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরিষা দানা পিষে সরিষার তেল তৈরি করা হয়। এর
রঙ ঘন লালচে হলুদ এবং এর গন্ধ ঝাঁঝালো।
খাঁটি ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেল স্বাস্থ্য উপকারি। সরিষার তেল অনেক বছর
ধরেই খারাপ তেলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল কিন্তু এখন এটা অনেকেই ব্যবহার
করছেন। এমনকি নিউ ইয়র্কের খুব জনপ্রিয় কিছু রেস্টুরেন্টের শেফ এই তেল ব্যবহার করছেন।
সরিষার তেলে কি আছে?
সরিষার তেল মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (Monounsaturated fat) এবং প্রদাহ বিরোধী (anti-inflammatory) উপাদানে সমৃদ্ধ। এছাড়াও সরিষার তেল মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (Monounsaturated fat) ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড, এন্টি অক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থে ভরপুর। এতে খুব অল্প পরিমানে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে।
১০০ গ্রাম সরিষার তেলে আছেঃ
স্যাচুরেটেড ফ্যাট ১২ গ্রাম
পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ২১ গ্রাম
মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ৫৯ গ্রাম
কিভাবে এই তেল তৈরি হয়?
এই তেল ২ উপায়ে তৈরি হয়
১। কাচ্চি ঘানি (Cold pressed)
এই প্রক্রিয়ায় সরিষার দানা সরাসরি পিষে এ থেকে তেল বের করা হয় এই তেল হয় খুব ঘন এবং ঝাঁঝযুক্ত। এই তেল সবচেয়ে বেশী স্বাস্থ্য উপকারী। এটা হজম শক্তি বাড়ায়, হৃদপিন্ড ভাল রাখে, চুল গজানোয় সাহায্য করে এবং শরীরের মাংশ শক্ত হয়ে যাওয়া (muscle stiffness) রোধ করে।
২। এসেনশিয়াল অয়েল (Mustard Essential oil)
এই পদ্ধতিতে পেষা সরিষার দানার সাথে পানি, ভিনেগার অথবা অন্য কোন তরল মিশিয়ে বানানো হয়। এই তেল হয় অনেক পাতলা। সরিষার দানায় মাইরোসিনেইস (Myrosinase) এবং সিনিগ্রিন (Sinigrin) নামে দ’টি উপাদান আছে। পানিতে ভিজিয়ে রাখার ফলে এই দু’টি উপাদান বিষাক্ত কম্পাউন্ড সৃষ্টি করে। তাই এই ধরণের তেল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
সরিষার তেলের ১৩টি উপকারিতা
১। হজম প্রক্রিয়া
সরিষার তেল হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে এবং মেটাবলিক রেট বৃদ্ধি করে।
২। সরিষার তেল ব্যথা কমায়
সরিষার তেলে থাকা প্রদাহ বিরোধী (Anti-inflammatory) উপাদান ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। হাঁটুর ব্যথা, অন্যান্য জয়েন্টের ব্যথা, আর্থ্রাইটিস (বাত) এবং রিউম্যাটিক এর ব্যথাও দূর করে।
৩। ক্যান্সার রোধ
এই তেলে থাকা গ্লুকোসিনোলেট (Glucosinolate) নামক উপাদান মলাশয় ক্যান্সার এবং অন্ত্রের ক্যান্সার রোধে সাহায্য করে।
৪। সরিষার তেল ফুসফুস পরিষ্কার রাখে
সরিষার তেল এক ধরণের ডিকঞ্জেস্টেন্ট বা শ্বাসতন্ত্র পরিষ্কারক। এই তেলের সাথে রসুন মিশিয়ে বুকে ও পিঠে লাগালে কফজনিত সমস্যার সমাধান হয়।
এই মুহূর্তের ট্রেন্ডিং আর্টিকেলগুলো
৫। হৃদিপিন্ড সুস্থ রাখে সরিষার তেল
সরিষার তেলে থাকা মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ভাল কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ক’রে হৃদরোগের ঝুঁকি ৭০% কমিয়ে আনতে পারে।
৬। এজমা রোগে সরিষার তেল
এজমা এটাক (Asthma attack) হলে সরিষার তেল বুকে ঘষলে শ্বাস নেয়ার ক্ষমতা বেড়ে যায়। সবসময় এর ব্যবহার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
৭। ত্বক ও চুলের যত্নে সরিষার তেল
শীতের সময় এই তেল ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্কতা দূর হয় এবং শরীর গরম থাকে। এই তেলের ব্যাক্টেরিয়া এবং ফাঙ্গাস বিরোধী গুণাগুণ ত্বক ও চুলকে উজ্জ্বল করে তুলে। এই তেল ব্যবহার করলে ত্বক কখনই কালো হয় না বরং ত্বকের টোনের উন্নতি হয়।
৮। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নাভিতে কয়েক ফোঁটা সরিষার তেল দিলে সুফল পাওয়া যায়।
৯। স্মরণশক্তি বৃদ্ধি ও চেতনার উন্নয়নে
সরিষার তেল স্মরণশক্তি বৃদ্ধি ও চেতনার উন্নয়নে সহায়তা করে।
১০। মাসিকের ব্যথা
মেয়েদের মাসিকের ব্যথা এবং গ্যাস ও বদহজম জনিত পেটের ব্যথায় সরিষার তেল পেটে মালিশ করলে সুফল পাওয়া যায়।
১১। পোকামাকড় এবং মশা তাড়ানো
পোকামাকড় এবং মশা তাড়ানোর জন্য ঔষধ হিসাবে সরিষার তেল ব্যবহৃত হয়। এর গন্ধে পোকামাকড় কাছে ঘেঁষে না।
১২। ওজন কমাতে সরিষার তেল
রিবোফ্ল্যাভিন (Riboflavin) ও নায়াসিন (Niacin) সমৃদ্ধ সরিষার তেল শরীরে মেটাবলিজম বাড়িয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
১৩। দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায়
সুস্থ দাঁত ও জিঞ্জাভাইটিস ও পেরিওডন্টাইটিস রোগ প্রতিরোধে সরিষার তেল সহায়ক।
১/২ চা চামচ সরিষার তেল + ১ চা চামচ হলুদের গুঁড়া + ১/২ চা চামচ লবন মিশিয়ে দাঁত ও মাড়িতে হালকা করে দু’বেলা ঘষুন।
সতর্কতা
সরিষার তেলে থাকা ইরিউসিক এসিড (erucic acid) -এর কারনে রান্নার কাজে এই
তেল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপে ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে এটা বাহ্যিক
ব্যবহার যেমন মালিশের জন্য এসব দেশে নিষিদ্ধ নয়।
শেষ কথা
বাজারে পাওয়া সব তেলের মধ্যে সরিষার তেল সব থেকে বেশী স্বাস্থ্যকর। তবে এটা হতে হবে খাঁটি ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেল বা কোল্ড প্রেসড (cold pressed)। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের দেশগুলিতে নিষিদ্ধ হলেও সরিষার তেল অন্যান্য দেশ বিশেষ করে এশিয়ার সর্বত্র রান্নার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ইদানিং অনেকেই সয়াবিন তেলের পরিবর্তে খাঁটি ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেল ব্যবহার করা শুরু করেছেন।
রোগ প্রতিরোধ করবে সরিষার তেল
আবহমান কাল থেকেই বাংলাদেশে সরিষার চাষ হয়। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ রান্নায়, ঠাণ্ডা সারাতে, নবজাতকের যত্নে সরিষার তেল ব্যবহার করে থাকেন। আগে নিজ বাড়িতে সরিষার তেলের ঘানি ভাঙালেও এখন আর তেমনটা চোখে পড়ে না। বর্তমানে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শরীরের যত্নে বাজারে হাতের কাছেই পাওয়া যায় নজরকাড়া ঘ্রাণের দেশি-বিদেশি লোশন।
তবে বাজারের বিভিন্ন ধরনের লোশনের ভিড়ে টিকে আছে গ্রামবাংলার মানুষের কাছে প্রিয় সরিষার তেল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সরিষার তেল বিভিন্ন ধরনের রোগ-প্রতিরোধে সাহায্যে করে। কিন্তু এই বিষয়টি আমাদের অনেকেরই অজানা।
সরিষার তেল কীভাবে রোগ-প্রতিরোধে সাহায্য করবে এ বিষয়ে জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।যুগান্তর পাঠকের জন্য থাকছে সরিষার তেল কীভাবে বিভিন্ন রোগ-প্রতিরোধে সাহায্য করে।
আসুন জেনে নেই সরিষার তেলে বিভিন্ন গুণাগুণ সম্পর্কে।
ঠাণ্ডা-কাশি কমাতে
সুপ্রাচীন কাল থেকে ঠাণ্ডা-কাশি সারেতে সরিষার তেলের জুড়ি নেই। সরিষার তেল শ্বাসতন্ত্রের বাধা পরিষ্কার করে; অ্যাসমা ও সাইনাসের সমস্যা কমায়।
ব্যথা কমায়
ব্যথা কমাতেও সাহায্যে করে সরিষার তেল। সরিষার তেল গাঁটের ব্যথা ও ফোলা কমাতে ভালো কাজ করে।এছাড়া সরিষার তেলে থাকা প্রদাহরোধী উপাদানের জন্য এটি রিউমাটিসজম ও আরথ্রাইটিস কমায়।
মাড়ির শক্তি বাড়াতে
মাড়ির শক্তি বাড়াতে সরিষার তেল বিশেষভাবে কাজ করে।এটি প্লাক কমাতে ও দাঁত ব্যথা কমাতেও কাজ করে।
হৃৎপিণ্ডের রোগ-প্রতিরোধ করে
সরিষার তেলে ওমেগা তিন ও ওমেগা ছয় ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এটি হৃৎপিণ্ডকে স্বাস্থ্যকর রাখে। তাই হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে রান্নায় নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া শরীরের বাজে কোলেস্টেরল সরিষার তেল কাজ করে।
ক্যানসার প্রতিরোধে
সরিষার তেল পাকস্থলীর ক্যানসার ও কোলোন ক্যানসার প্রতিরোধে উপকারী। তেলের মধ্যে থাকা গ্লুকোসাইনোলেট ক্যানসার ও টিউমার প্রতিরোধ করে।
যেভাবে বুঝবেন সরিষার তেল আসল না নকল
রান্নার ক্ষেত্রে অনেকেই সয়াবিন তেল ব্যবহার করে থাকেন। তবে এখন অনেকেই অলিভ ওয়েল ব্যবহার করেন। আবার অনেকে এখনও সরিষার তেলই ব্যবহার করেন। তারা দাবি করেন, এতে খাবারে তীব্র সুভাস বা স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। তবে সরিষার তেল রান্নায় স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরিষার তেল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং পাশাপাশি এটি ত্বক এবং চুলের জন্যও খুব উপকারী।
এ
তেলে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল উপাদান, যা বিভিন্ন
ক্ষতিকর জীবাণুকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে সরিষার তেল বিদ্যমান
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের বিভিন্ন ব্যথা, যন্ত্রণায় উপশম ঘটাতে
সাহায্য করে।
বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, শরীরের ক্যানসার কোষগুলো
দ্রুত ধ্বংস করতে এ তেলের ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি এটিতে মোনোস্যাচুরেটেড
ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদপিণ্ডের জন্যও দারুণ উপকারী। যা বিভিন্ন হৃদরোগের ঝুঁকি
কমায়। এ ছাড়া শীতের মৌসুমে ঠান্ডা লাগার হাত থেকে শরীরকে রক্ষাও করে সরিষার
তেল।
তবে
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরিষার তেল কেনার সময় অবশ্যই পরীক্ষা করে কিনতে হবে
এটি আসল না নকল। তবে কীভাবে জানবেন এটি আসল না নকল? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
সর্ষের
তেল দোকান থেকে কেনার পর ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। এরপর যদি দেখেন,
সরিষার তেলের উপর সাদা রঙের কোনো আস্তরণ দেখা দিয়েছে, তাহলে বুঝে নিতে হবে
সেটি নকল তেল।
কেনার সময় কয়েক ফোঁটা হাতের তালুতে নিয়ে ভালোভাবে
ঘষুন। যদি কোনো গন্ধ পান বা হাতের রঙ বদলে যায়, তাহলে বুঝবেন সেটিতে অন্য
কোনো উপাদান মেশানো রয়েছে। সেই সরিষার তেল ১০০ শতাংশ আসল নয়।
সূত্র: এবিপি আনন্দ
Friday, September 9, 2022
সরিষার তেলের ১২ টি ভিন্ন ব্যবহার
মাছ ভাজা, নানা রকম ভর্তা, মুড়ি মাখা, আচারের মতো মুখরোচক খাবারে সরিষার
তেল যোগ করে আলাদা স্বাদ। বাঙালির রান্নায় সরিষার তেল না থাকলে যেন জমে না।
চলুন জেনে নেই সরিষার তেলের ১২ টি ভিন্ন ব্যবহার :
১. এর আছে ঝাঁজালো অনন্য স্বাদ।
২. এক চা-চামচ সরিষার তেলে আছে ১২৬ ক্যালরি।
৩. সরিষার তেল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদানসমৃদ্ধ।
ত্বকের ওপর এই তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দূর হয়।
৪. পোকামাকড় সরিষার তেল সহ্য করতে পারে না। এই তেল ব্যবহার করে পোকামাকড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৫. সরিষার তেলে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড (অলিক ও লিনোলিক অ্যাসিড) চুল পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। চুলের গোড়া মজবুত করে এবং মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
৬. সরিষার তেল শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের ঘাম বের হওয়ার গ্রন্থিগুলো পরিষ্কার ও সচল রাখে। ফলে শরীরের বর্জ্য পদার্থগুলো বের হয়ে যায়।
৭. এটি উষ্ণ তেল হিসেবে শীতের সময় শরীরে ম্যাসাজ করা যায়।
৮. এর উষ্ণতার গুণের কারণে আয়ুর্বেদশাস্ত্রে একে কফ ও কাশি প্রতিরোধক হিসেবে বলা হয়েছে।
৯. বাতের ব্যথা দূর করতে সরিষার তেলের ব্যবহার দেখা যায়।
১০. দাঁতের মাড়ির বিভিন্ন রোগ দূর করতে লবণ ও সরিষার তেল ব্যবহার করা হয়।
১১. সরিষার তেলের ব্যবহারে হৃদ্রোগের ঝুঁকি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে।
১২. সরিষার তেল আর হলুদ ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয় এবং শুষ্ক চামড়া ঝরে পড়ে।
Tuesday, August 16, 2022
সরিষার তেল মাখলে যে উপকারগুলো অবশ্যই পাবেন
এক সময়ে বাংলার ঘরে ঘরে শিশুদের সরিষার তেল মাখিয়ে রোদে রাখার রেওয়াজ ছিল। ধারণা ছিল, তেল ও সূর্যের ভিটামিন ডি শিশুকে ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখবে এবং শরীরের হাড়গোড় মজবুত হবে। শুধু তা-ই নয়, বড়রাও নিয়মিত শরীরে মাখতেন সরিষার তেল।
ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যান্ডেড তেল কিংবা বাজারচলতি লোশনের চেয়ে সরিষার তেলে আস্থা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে সেই তেলকে অবশ্যই খাঁটি হতে হবে।
শুধু ত্বকই নয় হৃৎপিণ্ড, পেশি, গাঁট— হাজারো সমস্যার মোকাবিলায় সরিষার তেলের বিকল্প নেই। তাই কেবল মুড়িমাখা কিংবা আচাড়ে সরিষার তেল নয়, তা কাজে লাগে নানা রোগ নিরাময়েও। কেমন সে সব? তা জেনে নিন...
• ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আনতে প্রতিরাতে সরিষার তেলের সঙ্গে সমপরিমাণ নারিকেল তেল মিশিয়ে মিনিট দশেক ধরে মাসাজ করুন। তারপর ভাল করে মুখ ধুয়ে ঘুমোতে গেলে ত্বক যেমন নরম থাকবে, তেমনই উজ্জ্বল হবে।
• রোদে ত্বকে ট্যান পড়া স্বাভাবিক। ডার্ক স্পট, ট্যান বা পিগমেন্টেশন ঠেকাতে বেসন, দই, লেবুর রসের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে মুখে-ঘাড়ে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা পানি ধুয়ে ফেললে উপকার পাবেন।
• সরিষার তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং বি কমপ্লেক্স। ফলে এটি রিংকল কমাতে সাহায্য করে।
• সানস্ক্রিনে খুব ঘাম হলে বা কোনভাবে সানস্ক্রিন বাড়িতে না থাকলে অল্প সরিষার তেল হাতের তালুতে ঘষে মুখে লাগিয়ে নিলে তা সূর্যের ক্ষতিকারক আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করবে। তবে বেশি তেলে ধুলোবালি ধরে রাখে ত্বক। তাই খেয়াল রাখবেন পরিমাণের প্রতি।
• সরিষার তেল অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদানে ভরপুর। তাই অ্যালার্জি ও র্যাশের হানা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
• ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি রুখতেও সরিষার তেল বিশেষ কাজে আসে।
• সরিষার তেলে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা চুলের বৃদ্ধিতে অনেক সাহায্য করে। এ ছাড়া প্রতি রাতে চুলে সরিষার তেল মালিশ করে লাগালে চুল কালো হবে এবং চুল পাকা রোধ হবে।
• শরীরে মালিশ করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন এবং ঘর্মগ্রন্থি উদ্দীপিত হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।
এএইচ/
সরিষার তেল কি সয়াবিনের বিকল্প হতে পারবে
প্রতি বছর দেশে গড়ে ২ লাখ টন সরিষার তেল উৎপন্ন হয়। বিপরীতে বছরজুড়ে ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ টন। এ মুহূর্তে দেশের সবাই যদি সয়াবিন তেল সরিয়ে রেখে শুধু সরিষার তেল দিয়ে রান্না শুরু করেন, তাহলে উৎপাদিত সরিষা তেল দিয়ে মাত্র ৩৭ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।
দেশে যত সরিষা উৎপাদিত হয়, তার পুরোটাই তেল হয়ে বাজারে আসে না। বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্রপস উইং শাখার তথ্য অনুযায়ী, বছরওয়ারি ফলন যাই হোক, বীজ সংরক্ষণসহ সরিষার অন্যান্য ব্যবহার বাদ দিয়ে প্রতি বছর গড়ে ৫ লাখ টন সরিষা ব্যবহার হয় তেল উৎপাদনে।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের তথ্য বলছে, সরিষা বীজে সাধারণত ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত তেল থাকে। এ হিসাবে এক কেজি সরিষা থেকে পাওয়া যায় ৪০০ গ্রাম তেল। ৪০ কেজি বা এক মণ সরিষা থেকে তেল মেলে ১৬ কেজি।
অর্থাৎ প্রতি বছর ৫ লাখ টন সরিষা থেকে গড়ে ২ লাখ টন তেল পাওয়া যায়। বিপরীতে সারা বছর দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ টন।
ঘাটতি পূরণে সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে ভোক্তারা যদি তাদের রান্নার পুরো চাহিদা সরিষা তেল দিয়ে মেটাতে চায়, তাহলে এখন উৎপাদিত সরিষা তেল দিয়ে মাত্র ৩৭ দিনের চাহিদা মিটতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭৩৭ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। হেক্টরে ১.৩৬ টন গড় ফলন হিসাবে ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪১ টন সরিষা উৎপন্ন হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বিশ্বে যত তেল ব্যবহার হয়, তার ৬০ শতাংশের জোগান দেয় সয়াবিন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি করোনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে এখন সয়াবিনের সরবরাহে মারাত্মক টান পড়েছে।
দেশে দৈনিক ভোজ্যতেলের চাহিদা ৫ হাজার ৪৭৯ টন। এর ৯০ শতাংশের জোগান আসে আমদানীকৃত সয়াবিন থেকে। বাকিটা সরিষা, সানফ্লাওয়ার অয়েল, রাইস ব্র্যান অয়েলসহ অন্যান্য উৎস থেকে আসে। এই বিকল্পগুলো থেকে সম্মিলিতভাবে বছরজুড়ে তেল পাওয়া যায় মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার টন।
কয়েক দশক আগেও দেশে সরিষার তেল ছিল রান্নায় বহুল ব্যবহৃত ভোজ্যতেল। এরপর ধীরে ধীরে সেই রান্নাঘরে দখল নেয় সয়াবিন তেল।
মূলত বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারনীতি এবং সরিষার তেলের তুলনায় দাম কম হওয়ার কারণে দেশের ৯৫ ভাগ ক্রেতা এখন সয়াবিন তেলের ভোক্তা হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে দাম বেশি হওয়ায় সরিষা তেল পরিণত হয়েছে শৌখিন পণ্যে।
কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে সয়াবিনের দাম চড়ছে। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে সরবরাহে ঘাটতি। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি ঘটেছে যে, বাড়তি দাম দিয়েও ধারে-কাছে মিলছে না সয়াবিন। এর বিপরীতে পরিমাণে কম হলেও দেশের সর্বত্র মিলছে সরিষার তেল। আবার কাঠের ঘানি বা মেশিনে ভাঙা সরিষার তেল খোলা বিক্রির পাশাপাশি করপোরেট কোম্পানিগুলোর মাধ্যমেও সারা দেশে বাজারজাত হচ্ছে। সুবিধামতো মিলছে ১০০ গ্রাম, ২৫০ গ্রাম, ৫০০ গ্রাম, ১ লিটার ও পাঁচ লিটারের বোতলেও।
এ অবস্থায় অনেক ভোক্তা বিকল্প হিসেবে আবারও সরিষার তেলে ফেরার কথা ভাবছেন, কিন্তু সয়াবিনের তাপ এসে লেগেছে সরিষার তেলের বাজারেও। সেখানেও দামে ঊর্ধ্বগতি। একসঙ্গে অনেক ক্রেতা এই তেল কিনতে শুরু করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারে ছাড়া আগের সব স্টক ইতোমধ্যে ফুরিয়ে এসেছে। তাদের ঘন ঘন ছাড়তে হচ্ছে নতুন স্টক। আগে কোম্পানিভেদে প্রতি লিটার বোতলজাত সরিষার তেলের দাম রাখা হতো ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা। এখন নতুন মূল্য উঠেছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা।
শুধু বড় কোম্পানিই নয়, দাম বেড়েছে স্থানীয়ভাবে ঘানিতে ভাঙা সরিষার তেলেরও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে সয়াবিনের অস্থিরতা তৈরির আগে প্রতি লিটার খোলা সরিষার তেলের দাম ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। রোজার আগে এ দাম বেড়ে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় গড়ায়।
ঘানি ভাঙা তেল রোজার আগে ছিল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত। এখন সয়াবিনের মারাত্মক ঘাটতিতে প্রচণ্ড রকম চাপ পড়েছে সব ধরনের সরিষার তেলের ওপর। এতে করে আরেক দফা দাম বাড়ে ঘানিতে ভাঙা সরিষারও। বর্তমানে এই তেল স্থানভেদে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, দেশে সয়াবিন তেলের বাজার অস্থির হওয়ার আগে তারা দোকানে সরিষার তেল রাখতেন শৌখিন পণ্য হিসেবে। সাধারণত আচার, চাটনি তৈরিতে এর ব্যবহার হতো। এ ছাড়া ভর্তা খাওয়া বা মুড়ি মাখার জন্য আগ্রহী ক্রেতাই শুধু সরিষার তেল কিনতেন। ফলে সরিষার তেল উৎপাদন এবং সরবরাহ খুব কম হতো।
তারা বলছেন, যেটুকু সরবরাহ থাকত, বাজারে তার স্টক শেষ হতে সপ্তাহ থেকে মাস লেগে যেত। এখন ক্রেতারা আসছেন, সরিষার তেল চাচ্ছেন, কিন্তু স্টক ফুরিয়ে যাওয়ায় কিনতে পারছেন না। অনেকে এখন ঘানিতে ভাঙা তেলের খোঁজ করছেন। বাড়তি চাহিদার কারণে কৃষক পর্যায়েও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে সরিষার দাম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতেও প্রতি মণ সরিষার দাম ছিল মানভেদে ২ হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। এখন সেই সরিষা বাজারে বা কৃষক পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়।
মূলত সরিষার দাম বাড়ায় তেলের দামও বেড়েছে। আবার সরিষা কিনে মিলাররাও তেল বিক্রিতে বাড়তি মুনাফা করার চেষ্টা করছেন। এ কারণেও সরিষার তেলের দাম বেড়েছে।
বাজারে বর্তমানে রাঁধুনি, তীর, ফ্রেশ, সুরেশ, পুষ্টি, রূপচাঁদা ছাড়াও কমপক্ষে ২০টিরও বেশি ব্র্যান্ড ও নন ব্র্যান্ডের সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে তীর ব্র্যান্ডের সরিষা তেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি খুব সিম্পল। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে। এটাই স্বাভাবিক।
‘তেলের কাঁচামাল হলো বীজ, কিন্তু এবার বাড়তি চাহিদার কারণে সরিষার বীজের দামও বেড়েছে। সরিষা কেনায় বেশি খরচ পড়ায় দামও বাড়াতে হয়েছে।’
সরিষা চাষ বাড়ানো সম্ভব?
সরিষা দেশের সর্বত্র চাষ হলেও ঢাকা, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, ফরিদপুর, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, পাবনা, রাজশাহী ও রংপুর জেলায় এটি বেশি চাষ হয়।
দেশের তেলবীজ আবাদি জমির প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় সরিষা চাষ করা হয়। এরপরও ২০১৯ সালে প্রায় দশমিক ৪৬ লাখ টন সরিষা আমদানি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, এ ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষা আবাদের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এ জন্য এখনই প্রয়োজন তেল ফসলের চাষাবাদ বৃদ্ধি করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেয়া।
বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের উপপ্রকল্প সমন্বয়ক ড. রেজা মোহাম্মদ ইমনের দাবি, দেশের ২২ লাখ হেক্টর পতিত (দুই ফসলের মাঝের) জমিতে যদি বিনাসরিষা-৪ ও বিনাসরিষা-৯ আবাদ করা যায়, তাহলে বছরে ১৭ হাজার কোটি টাকার তেল আমদানি সাশ্রয় করা সম্ভব।
তিনি আরও মনে করেন, প্রতি বছর ৩ দশমিক ৫ লাখ টন উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে ২০৩০ সালে মোট সরিষা উৎপাদন হবে প্রায় ৪৬ দশমিক ৬৩ লাখ টন, যা থেকে প্রায় ১৬ দশমিক ৩২ লাখ টন তেল পাওয়া সম্ভব। এতে ১৭ হাজার কোটি টাকার যে তেল আমদানি করতে হয়, তা আর আমদানি করতে হবে না। এ জন্য অবশ্যই দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করতে হবে বিনাসরিষার মাধ্যমে।
রান্নায় সরিষার তেল খেলে কি সত্যিই ওজন কমে?
সরিষার তেল যেমন চুলের জন্য উপকারী, ঠিক তেমনই এই তেল স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক ভালো। বিশেষ করে সয়াবিন তেলের তুলনায় সরিষার তেল খাওয়া বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে ওজন কমাতেও কি সাহায্য করে এই তেল?
আসলে যে কোনো তেলেই স্যাচুরেটেড ও আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। স্যাচুরেটেড ফ্যাট আমাদের শরীরের জন্য খারাপ হলেও, আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট আবার শরীরের জন্য উপকারী।
এ ধরনের ফ্য়াট কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এজন্য চিকিৎসকরা একেবারেই অর্গ্যানিক সরিষার তেল খাওয়ার পরামর্শ দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘানি ভাঙানো সরিষার তেল সবচেয়ে ভালো।
স্বাস্থ্য এবং ত্বকের জন্যেও ভালো। অস্বাস্থ্যকর তেল খাওয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো হার্টের অসুখ। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সরিষার তেল মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় ও সিএইচডি’র ঝুঁকি কমায়।
সরিষার তেল যেভাবে ওজন কমায়
সরিষার তেল হার্ট, হাড়, হজম ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর। এতে মনোস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। যারা পেটের বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন তারা প্রতিদিনের রান্নায় সরিষার তেল ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।
এই তেল হজমশক্তি বাড়ায়। আর খাবার দ্রুত হজম হলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই তেলে থাকে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। সরিষার তেল লিভারের কার্যকারিতাও উন্নত করে।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না বরং রক্তে চর্বির মাত্রাও হ্রাস করে। যেখানে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রাকৃতিকভাবে শরীরে সঞ্চিত বাদামি চর্বির ব্যবহার বাড়ায়।
সরিষার তেলের উপকারিতা
>> সরিষার তেলে আছে মনোস্যাচুরেটেড ও পলিঅনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ।
>> এই তেল শরীরের ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতেও সহায়ক।
>> গ্লুকোসিনোলেটের উপস্থিতির কারণে সরষের তেলের ক্যানসার বিরোধী বৈশিষ্ট্য আছে।
>> এই উপাদানগুলো কলোরেক্টাল ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনালের মতো ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
>> সরিষার তেল রান্নার পাশাপাশি আরও অনেক উপায়েও ব্যবহার করা যায়।
>> গরম সরিষার তেল দিয়ে জয়েন্টগুলোতে ম্যাসাজ করলে অস্বস্তি অনেকাংশে কমে যায়।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
সরিষার তেল দিয়ে ভাজা জিনিস খাওয়া এড়িয়ে চলুন। তার চেয়ে আস্ত সরিষা বেটে বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করুন সবজি রান্না করার সময়।
মনে রাখবেন, সরিষার তেল ভালো করে গরম করে তবেই খাবেন। তেল অপরিশোধিত হলে ব্যবহার করবেন না। এই তেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে মালিশ করতে পারবেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
যেভাবে বুঝবেন সরিষার তেল আসল না নকল
রান্নার ক্ষেত্রে অনেকেই সয়াবিন তেল ব্যবহার করে থাকেন। তবে এখন অনেকেই অলিভ ওয়েল ব্যবহার করেন। আবার অনেকে এখনও সরিষার তেলই ব্যবহার করেন। তারা দাবি করেন, এতে খাবারে তীব্র সুভাস বা স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। তবে সরিষার তেল রান্নায় স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরিষার তেল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং পাশাপাশি এটি ত্বক এবং চুলের জন্যও খুব উপকারী।
এ
তেলে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল উপাদান, যা বিভিন্ন
ক্ষতিকর জীবাণুকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে সরিষার তেল বিদ্যমান
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের বিভিন্ন ব্যথা, যন্ত্রণায় উপশম ঘটাতে
সাহায্য করে।
বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, শরীরের ক্যানসার কোষগুলো
দ্রুত ধ্বংস করতে এ তেলের ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি এটিতে মোনোস্যাচুরেটেড
ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদপিণ্ডের জন্যও দারুণ উপকারী। যা বিভিন্ন হৃদরোগের ঝুঁকি
কমায়। এ ছাড়া শীতের মৌসুমে ঠান্ডা লাগার হাত থেকে শরীরকে রক্ষাও করে সরিষার
তেল।
তবে
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরিষার তেল কেনার সময় অবশ্যই পরীক্ষা করে কিনতে হবে
এটি আসল না নকল। তবে কীভাবে জানবেন এটি আসল না নকল? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
সর্ষের
তেল দোকান থেকে কেনার পর ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। এরপর যদি দেখেন,
সরিষার তেলের উপর সাদা রঙের কোনো আস্তরণ দেখা দিয়েছে, তাহলে বুঝে নিতে হবে
সেটি নকল তেল।
কেনার সময় কয়েক ফোঁটা হাতের তালুতে নিয়ে ভালোভাবে
ঘষুন। যদি কোনো গন্ধ পান বা হাতের রঙ বদলে যায়, তাহলে বুঝবেন সেটিতে অন্য
কোনো উপাদান মেশানো রয়েছে। সেই সরিষার তেল ১০০ শতাংশ আসল নয়।
সূত্র: এবিপি আনন্দ
Friday, June 24, 2022
সরিষার তেল বা সর্ষের তেল
Monday, June 20, 2022
সরিষার তেল পরিপাক, রক্ত সংবহন ও রেচনতন্ত্রের শক্তিশালী উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
সরিষার তেল পরিপাক, রক্ত সংবহন ও রেচনতন্ত্রের শক্তিশালী উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া খাওয়ার পাশাপাশি বাহ্যিকভাবে শরীরে মালিশ করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন এবং ঘর্মগ্রন্থি উদ্দীপিত হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে। সরিষার তেলে গ্লুকোসিনোলেট নামক উপাদান থাকে, যা অ্যান্টিকারসিনোজেনিক উপাদান হিসেবে পরিচিত।
Sunday, June 19, 2022
খাঁটি সরিষার তেল
খাঁটি সরিষার তেল বলতে সাধারণত ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেলকেই বোঝায়। যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে কাঠের ঘানি দ্বারা সরিষা পিষ্ট করে বের করা হয়। এই দেশীয় পদ্ধতিতে নিঃসরণকৃত সরিষার তেলে ঝাঁজ হয় খুবই কম কিন্তু সুঘ্রাণ হয় তীব্র।
আসল বা খাঁটি সরিষার তেল
আসল বা খাঁটি সরিষার তেল এর তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ হয় না। কিন্তু নকল সরিষার তেল এ তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ থাকে।তাই ঝাঁঝালো তৈল খুঁজতে গিয়ে নকল তৈল খাচ্ছেন নাতো? পাচক খাঁটি সরিষার তৈল, নিখাদ সরিষা বীজে বিশুদ্ধ প্রতিটি ফোঁটা।।।
দেশি সরিষার কেমিক্যাল মুক্ত তেল
দেশি সরিষার কেমিক্যাল মুক্ত তেল খান