Thursday, September 15, 2022

কোন তেল বেশি উপকারী, সয়াবিন না সরিষা?

কোন তেল বেশি উপকারী, সয়াবিন না সরিষা?

 প্রতিদিনের রান্নার কাজে তেল তো লাগেই। সবজি, মাছ, মাংস, ডাল, খিচুড়ি, পরোটা কোনটাই বা তেল ছাড়া হয়! কিন্তু সব তেল যে স্বাস্থ্যের জন্য সমান উপকারী, তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে উপকারী তেলের তালিকা। কোনোটি বলছে অলিভ অয়েলই ভালো, কোনোটি আবার অ্যাভোকাডো তেলের পক্ষে। সরিষার তেলের উপকারিতাও কম নয়। 

পরিশোধিত তেল কি ভালো?

আমাদের সবার রান্নাঘরেই থাকে পরিশোধিত তেল। বেশিরভাগেরই ধারণা, এই তেল স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী এবং এই তেল দিয়ে সব ধরনের খাবার তৈরি করা যায়। আসলেই কি এই তেল উপকারী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তেল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। পরিশোধিত করতে গিয়ে এই তেল খুব বেশি তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে আসে, যে কারণে এর পুষ্টি অনেকটাই কমে যায়। এই তেলে পাওয়া যায় ট্রান্স ফ্যাট, যা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। উপকারী তেল তাহলে কোনগুলো? জেনে নিন-

ঘানিভাঙ্গা সরিষার তেল

পরিশোধিত তেলের বদলে কাচ্চি ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেল ব্যবহার করুন। এটি তৈরিতে কোনো তাপমাত্রা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় না। ফলে পুষ্টির প্রায় সবটাই রয়ে যায়। সরিষার তেল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে এবং এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই তেল আপনি যেকোনো রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন।

অলিভ অয়েল

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যতম স্বাস্থ্যকর তেল হলো অলিভ অয়েল। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে রান্না করা ভালো কারণ এটি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। এই তেল প্রক্রিয়াজাত ও পরিশোধিত হয় না, ফলে এর গুণমান অটুট থাকে। এতে থাকে পর্যাপ্ত মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কিছু পরিমাণ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুলো হার্টের জন্য খুব উপকারী। অলিভ অয়েলে রান্না করলে আঁচ খুব বেশি বাড়ানো যাবে না। এই তেল বেকিং বা সালাদে ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে ভালো।

নারিকেল তেল

নারিকেল তেলে থাকে উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট। তাই এর উপকারিতা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। এই ফ্যাটকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে ধরা হয়। তবে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, স্যাচুরেটেড ফ্যাট স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোতে অল্প ব্যবহার করে কোলেস্টেরল কমানো যেতে পারে। তাদের মতে, আমাদের শরীরেও দরকার পড়ে কিছু পরিমাণ স্যাচুরেটেড ফ্যাটের। তাই এটি সামান্য পরিমাণ ব্যবহার করা যেতে পারে।

সূর্যমুখী তেল

ভিটামিন ই সমৃদ্ধ তেল হলো সূর্যমুখী। এক চা চামচ সূর্যমুখী তেলে প্রায় আঠাশ শতাংশই থাকে ভিটামিন ই। এতে আলাদা স্বাদ থাকে না, তাই রান্না করা খাবারে তেলের স্বাদ যোগ হয় না। সূর্যমুখী তেলে থাকে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড, এটি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি শরীরে সৃষ্ট প্রদাহ কমাতে কাজ করে।

ভেজিটেবল অয়েল

উদ্ভিদ থেকে পাওয়া তেলকে বলা হয় ভেজিটেবল অয়েল। রান্নার ধরন বুঝে এই তেলের উপকারিতা বাড়তে বা কমতে পারে। তবে এই তেল প্রক্রিয়াজাত এবং পরিশোধিত হওয়ার কারণে এর স্বাদ ও পুষ্টি কম হয়। এটি পরিমিত খেলে আমাদের শরীরে ভালো ও খারাপ কোলেস্টেরলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে অতিরিক্ত খেলে তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের দেশে যে ভেজিটেবল অয়েলটি বেশি ব্যবহার করা হয় তা হল সোয়াবিন,  তিল, তিসি ইত্যাদি।

সয়াবিন তেলের চেয়ে সরিষার তেল তুলনামূলক ভালো, অলিভ অয়েল আরো ভালো। কিন্তু তেল ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। অনেকে মনে করেন, অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করলে বেশি পুষ্টি হবে। কিন্তু যখন আপনি অলিভ অয়েল বেশি তাপে রান্না করবেন গুণগত মান নষ্ট হবে।


সরিষার তেল মাখলে যে উপকারগুলো অবশ্যই পাবেন

সরিষার তেল মাখলে যে উপকারগুলো অবশ্যই পাবেন

 স্বাস্থ্য ডেস্ক : এক সময়ে বাংলার ঘরে ঘরে শিশুদের সরিষার তেল মাখিয়ে রোদে রাখার রেওয়াজ ছিল। ধারণা ছিল, তেল ও সূর্যের ভিটামিন ডি শিশুকে ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখবে এবং শরীরের হাড়গোড় মজবুত হবে। শুধু তা-ই নয়, বড়রাও নিয়মিত শরীরে মাখতেন সরিষার তেল।

ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যান্ডেড তেল কিংবা বাজারচলতি লোশনের চেয়ে সরিষার তেলে আস্থা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে সেই তেলকে অবশ্যই খাঁটি হতে হবে।

শুধু ত্বকই নয় হৃৎপিণ্ড, পেশি, গাঁট— হাজারো সমস্যার মোকাবিলায় সরিষার তেলের বিকল্প নেই। তাই কেবল মুড়িমাখা কিংবা আচাড়ে সরিষার তেল নয়, তা কাজে লাগে নানা রোগ নিরাময়েও। কেমন সে সব? তা জেনে নিন…

• ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আনতে প্রতিরাতে সরিষার তেলের সঙ্গে সমপরিমাণ নারিকেল তেল মিশিয়ে মিনিট দশেক ধরে মাসাজ করুন। তারপর ভাল করে মুখ ধুয়ে ঘুমোতে গেলে ত্বক যেমন নরম থাকবে, তেমনই উজ্জ্বল হবে।

• রোদে ত্বকে ট্যান পড়া স্বাভাবিক। ডার্ক স্পট, ট্যান বা পিগমেন্টেশন ঠেকাতে বেসন, দই, লেবুর রসের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে মুখে-ঘাড়ে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা পানি ধুয়ে ফেললে উপকার পাবেন।

• সরিষার তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং বি কমপ্লেক্স। ফলে এটি রিংকল কমাতে সাহায্য করে।

• সানস্ক্রিনে খুব ঘাম হলে বা কোনভাবে সানস্ক্রিন বাড়িতে না থাকলে অল্প সরিষার তেল হাতের তালুতে ঘষে মুখে লাগিয়ে নিলে তা সূর্যের ক্ষতিকারক আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করবে। তবে বেশি তেলে ধুলোবালি ধরে রাখে ত্বক। তাই খেয়াল রাখবেন পরিমাণের প্রতি।

• সরিষার তেল অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদানে ভরপুর। তাই অ্যালার্জি ও র‌্যাশের হানা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

• ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি রুখতেও সরিষার তেল বিশেষ কাজে আসে।

• সরিষার তেলে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা চুলের বৃদ্ধিতে অনেক সাহায্য করে। এ ছাড়া প্রতি রাতে চুলে সরিষার তেল মালিশ করে লাগালে চুল কালো হবে এবং চুল পাকা রোধ হবে।

• শরীরে মালিশ করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন এবং ঘর্মগ্রন্থি উদ্দীপিত হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।


সরিষার তেলে অনেক গুণ

সরিষার তেলে অনেক গুণ

প্রাচীন ভারতীয়, রোমান ও গ্রীক সভ্যতার আমল থেকে সরিষা তেল ব্যবহার হয়ে আসছে। ভারতীয় উপমহাদেশে খৃষ্টপূর্ব তিন হাজার বছর থেকে সরিষার ব্যবহার চলে আসছে। ইদানীংকালে ভোজ্য তেল হিসাবে সরিষার ব্যবহার বেড়েছে। বহুদেশে সরিষার আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে বাংলাদেশ, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, ক্রোয়েশিয়া, কলম্বিয়া, এসটোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গোরি, ভারত, ইটালি, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোলান্ড, সার্বিয়া, শ্লোভেনিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ভাজি, ভুনি, ডাল, মাছ, মাংস, শাক, সবজি, সালাদ, স্যান্ডইউচ, হ্যাম বার্গার, হটডগ, ইত্যাদি খাবার তৈরীতে সরিষা ব্যবহার হয়। সরিষা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। সরিষার মধ্যে প্রচুর পরিমান ভিটামিন ও খনিজ লবণ রয়েছে। সরিষা শক্তি বধর্ক খাদ্য। প্রতি ১০০ গ্রাম সরিষা বীজে ৫০৮ ক্যালারি শক্তি রয়েছে। এ ছাড়া ও সরিষার মধ্যে আছে পুষ্টিমান সমুদ্ধ আঁশ ও আমিষ। সরিষার মধ্যে আছে নিয়াসিন (ভিটামিন বি-৩ ) যা রক্তে কোলেষ্ট্রোল কমিয়ে রাখতে সহায়তা করে। সরিষার মধ্যে ভিটামিন বি- কমপ্লেক্স যেমন ভিটামিন বি-৬, থায়ামিন, ফোলেট, প্যানটোথেনিক এসিড, রিবোফ্লাভিন ও নিয়াসিন রয়েছে যা শরীরের স্নায়ুতন্ত্র সতেজ রাখতে সহায়তা করে। সরিষার মধ্যে বিদ্যামান ভিটামিন -ই চামড়ার উজ্জল্য বৃদ্ধি করে এবং তারুন্য ধরে রাখে। সরিষার মধ্যে কপার ও আয়রন আছে যা রক্তে হেমেগ্লোবিন উৎপাদনে সহায়তা করে। সরিষার তেল ব্যবহারে ত্বকের কালো দাগ দূর হয়। চুল পড়া বন্ধ করে। চোখের নীচের কালোদাগ মিটিয়ে দেয়। বার্ধক্য প্রতিরোধ করে। খস খসে চুলের জন্য শ্যাম্পুর কাজ করে। সুন্দর এবং আর্কর্ষণীয় ত্বক গঠন করে। সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি এবং অন্যান্য দূষণ থেকে রক্ষা করে ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ঘাম গ্রন্থি সতেজ করে শরীর থেকে বিষাক্ত দ্রব্য নিঃসরণে সহায়তা করে। ত্বকে ফুসকুরি এবং অন্যান্য সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। শীতের সময় ঠোট ফাটা প্রতিরোধ করে। চুল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। চুলের অকাল পক্কতা প্রতিরোধ করে।

ভোজ্য তেল হিসাবে সরিষা তেল বহুগুণে সমৃদ্ধ। ক্ষুধা বৃদ্ধি করে এবং হজম শক্তি বাড়ায়। সরিষা তেল ওমেগা- ৩, ওমেগা - ৬ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ স্বাস্থ্য কর ভোজ্য তেল। হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। ক্যান্সারের আশংকা কমায়। এজমা উপশম করে। ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধ করে। গেটে বাত ব্যথা কমায় । ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। 

সরিষা একসময় বাংলাদেশের প্রধান ভোজ্য তেল ছিল। এখনও বছরে, ৫. ৩২ লক্ষ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয় এবং ৫.৯৬ মেট্টিক টন সরিষা বীজ উৎপাদিত হয় (ডিত্রই ২০১৩)। বাংলাদেশে বাৎসরিক ১৫ লক্ষ টন ভোজ্য তেল প্রয়োজন। এর প্রায় ৮০% বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। আমদানিকৃত তেলের মধ্যে আছে সয়বিন ও পাম অয়েল।

সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি করে ভোজ্য তেলের চাহিদা নিজস্ব উৎপাদন থেকেই মেটানো সম্ভব। আমন ধান কাটার পরে বোরো ধান রোপনের আগে মধ্যবর্তি সময় সরিষার আবাদ করা যায়। তাছাড়া আশ্বিন কার্তিক মাসে যখন আমন ধান ক্ষেতের পানি শুকিয়ে যায় তখন ‘জো’ বুঝে ধানের মধ্যে সাথী ফসল হিসাবে সরিষা আবাদ করা যায়।

বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৫. ৩০ লক্ষ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয় এবং ৪৭.৯০ লক্ষ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয় (ডিএই ২০১৫ )। আমন ধান কাটার আগে ‘জো’ বুঝে হেক্টর প্রতি ৮-১০ কেজি সরিষা বীজ ছিটায়ে বোনা যায়। পৌষ মাসের মাঝা মাঝি সময় সরিষা তুলে ঐ জমিতে বোরো ধান রোপা করা যায়। আমন ধানের ক্ষেতে সাথী ফসল হিসাবে সরিষার আবাদ করা হলে প্রায় ৫০ লক্ষ টন সরিষা বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে। সরিষা বীজে ৪০ - ৪২% তেল হয়। এ ভাবে সরিষা উৎপাদন করলে দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা নিজস্ব উৎপাদন থেকেই মেটানো সম্ভব এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো যাবে।

 


চুল লম্বা ও মজবুত করে সরিষার তেল

চুল লম্বা ও মজবুত করে সরিষার তেল

 কেবল রান্নাতেই নয়, ঠাণ্ডার চিকিৎসা, ত্বক মসৃণ করা এবং সর্বোপরি চুলের যত্নে সরিষার তেলের অবদান অনস্বীকার্য। দূষণ ও রাসায়নিক প্রভাবে আমাদের চুল রুক্ষ হয়ে যায়। সরিষার তেলের নিয়মিত ব্যবহার চুলে নিয়ে আসবে প্রাকৃতিক জৌলুস। পাশাপাশি কমবে চুল পড়াও।

যেসব কারণে চুলের যত্নে সরিষার তেল ব্যবহার জরুরি  

  • সরিষার তেলে আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা চুল সুন্দর ও স্বাস্থ্যজ্বল রাখে। এছাড়া আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড দারুণ কন্ডিশনারের কাজ করে। ফলে চুল দ্রুত বাড়ে।
  • আজকাল চুল পড়া খুবই সাধারণ সমস্যা। এর কারণ চুলের ফলিকল দুর্বল হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া। চুলে নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহার করলে ফলিকল মজবুত হয়ে চুল পড়া বন্ধ হবে।
  • সরিষার তেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ আরও বিভিন্ন মিনারেল এবং ভিটামিন থাকে। এছাড়াও থাকে জিঙ্ক, বিটা ক্যারোটিন ও সেলেনিয়াম যা চুল লম্বা হতে সাহায্য করে।  
  • চুল রুক্ষ, শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে গেলে নিয়মিত মাথার তালুতে সরিষার তেল ম্যাসাজ করুন। এর ফলে মাথার তালুতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকভাবে হবে এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়ে চুল পড়া বন্ধ হবে।
  • সরিষার তেলে ওমেগা ৩  ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা চুল বড় হতে সাহায্য করে।
  • অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান থাকে সরিষার তেলে। এটি খুশকি ও চুলকানি দূর করে।

চুলের যত্নে যেভাবে ব্যবহার করবেন সরিষার তেল

  • টক দইয়ের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান। তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। আধা ঘণ্টা পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার বা দুইবার ব্যবহার করুন।
  • সরিষার তেল, লেবুর রস ও ধনিয়া গুঁড়া ভালো ভাবে মেশান। মাস্ক হিসাবে চুলে নিয়মিত মাখুন। আধ ঘণ্টা রেখে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল হবে মজবুত ও খুশকিমুক্ত।
  • একটি পাকা কলা চটকে নিন। সরিষার তেল ও দই মেশান। মিশ্রণটা ভালোভাবে মাথার তালুতে লাগান এবং আধ ঘণ্টা পর সাধারণ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে চুলে কন্ডিশনার লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল মসৃণ, উজ্জ্বল, মজবুত ও নরম হবে।   
  • একটা পাত্রে সরিষার তেল ও অ্যালোভেরা মেশান। মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট। মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন চুল। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে দুইদিন এই পদ্ধতি অবলম্বন করুন। হেয়ার প্যাকটি চুল মসৃণ ও স্বাস্থ্যজ্বল করবে। পাশাপাশি বন্ধ করবে চুল পড়া।

তথ্য: এনডিটিভি



সরিষার তেলের যত উপকারিতা

সরিষার তেলের যত উপকারিতা

 সরিষার তেলে মোনোস্যাচিউরেটেড ও পলিআনস্যাচিউরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, ওমেগা থ্রি ও সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। ফলে ইসকেমিক হার্ট ডিসিজ হওয়ার প্রবণতা কমে যায় প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ। সরিষার তেল শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল লেভেল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।

সরিষার তেলে থাকে ক্যান্সার প্রতিরোধের গুণ। এই তেলে থাকা লিনোলেনিক অ্যাসিড ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিণত হলে তা স্টম্যাক ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ঠান্ডার সমস্যায় সামান্য রসুন বাটা দিয়ে সরিষার তেল মিশিয়ে বুকে ও পিঠে মালিশ করলে আরাম লাগবে। এছাড়া স্টিমিং পদ্ধতিতে গরম পানির সঙ্গে সরিষার তেলের ঝাঁঝ নিলেও সর্দি-কাশি থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়।

সরিষার তেল মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী। ডিপ্রেশন কাটাতে, স্মৃতিশক্তি ও মনঃসংযোগ বাড়াতে সরষের তেলের ভূমিকা অদ্বিতীয়।

শ্বাসজনিত নানা সমস্যা, হাঁপানিতে সরষের তেল বুকে মাসাজ করলে আরাম পাওয়া যায়।

দাঁতের যন্ত্রণা, হলদেভাব দূর করে সাদা রং ফিরিয়ে আনতে আধ চামচ সরিষার তেল, এক চামচ হলুদ ও আধ চামচ লবণ মিশিয়ে দাঁতে ঘষুন। মুক্তি পাবেন দাঁতের সমস্যা থেকে।

প্রাকৃতিক উদ্দীপক হওয়ার জন্য সরিষার তেল খিদে বাড়ানো ও দ্রুত হজমে সাহায্য করে।

হঠাৎ পাওয়া চোটে পেশি অবশ হয়ে গেলে সরিষার তেল দিয়ে মাসাজ করুন। দ্রুত সংবেদনশীলতা ফিরে পাবেন।

রোজ সরিষার তেল দিয়ে মাসাজ করলে গাঁটের ব্যথা ও আর্থ্রাইটিসের সমস্যা কমে। পেশি সচল হয়।


Saturday, September 10, 2022

ত্বকে সরিষার তেল মাখা কি ভালো?

ত্বকে সরিষার তেল মাখা কি ভালো?

সরিষার তেলের ঔষধি গুণের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই এটি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অনেকেই ত্বকে এ তেল মাখতে পছন্দ করেন।

সরিষার তেল কি ত্বকে মাখা ভালো, এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. ফারিয়াল হক। বর্তমানে তিনি বনানী প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট, বনানীতে চর্ম ও যৌন বিভাগের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৬৪২তম পর্বে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।

প্রশ্ন : শীতে কি ত্বকে সরিষার তেল মাখা যাবে?

উত্তর : সরিষার তেল মাখবেন না, এ কথা বলব না। তবে সরিষার তেল সূর্যে স্পর্শকাতর। এ কারণে ত্বক কালো হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তবে আমি বলব, তেলের ক্ষেত্রে বায়ো অয়েল খুব ভালো। এটি ওষুধের দোকানে এখন অহরহ পাওয়া যায়। বায়ো অয়েল, নারকেল তেল ত্বকের জন্য খুব ভালো। অলিভ অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন।


ত্বক ফর্সা হবে সরিষার তেল ব্যবহারে

ত্বক ফর্সা হবে সরিষার তেল ব্যবহারে

 স্বাস্থ্য, ত্বক ও চুল সব ক্ষেত্রেই সরিষার তেল অসামান্য কাজ করে। নিয়মিত রান্নায় এই তেলের ব্যবহার অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত। ঠিক তেমনি রুপচর্চায় এর কার্যকারিতাও বহুল। ত্বক ও চুলের যত্নে এই তেল প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এবার তবে জেনে নিন সরিষার তেল ত্বকের যত্নে কতটা উপকারী-

১. ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে প্রতি রাতে সরিষা ও নারকেল তেল মিশিয়ে দশ মিনিট ত্বকে ম্যাসাজ করুন। তারপর ভালো করে মুখ ধুয়ে ঘুমাতে গেলে ত্বক হবে নরম ও উজ্জ্বল।

২. ত্বকের রোদে পোড়া দাগ ঠেকাতেও সরিষার তেলের জুড়ি মেলা ভার। এজন্য বেসন, দই ও লেবুর রসের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে মুখে ও ঘাড়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ব্যবহার করুন। এরপর ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

৩. এই তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং বি কমপ্লেক্স। নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহারে ত্বকে বার্ধ্যক্যের ছাপ পড়ে না। 

৪. সানস্ক্রিন না থাকলেও সমস্যা নেই। এর পরিবর্তে সামান্য সরিষার তেল ব্যবহার করুন। সূর্যের ক্ষতিকারক আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাবে। 

৫. এছাড়াও সরিষার তেলে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদানে ভরপুর। তাই অ্যালার্জি, র‌্যাশ, চুলকানি ও শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি খুবই ভালো একটি উপাদান।